Monday, September 2, 2019

মৃত্যুবরণ

মৃত্যুবরণ


জন্ম নিলে মৃত্যুবরণ করতেই হবে। এটাই চিরন্তন সত্য এবং ঘটমান।



######

এই পৃথিবীতে আমরা ক্ষনিকের অতিথি মাত্র। কেউ আমরা আজীবন বেঁচে থাকতে আসিনি। আমাদের জন্ম নেয়ার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মৃত্যুবরণ করা। যদি ভেবে থাকি যে, ঈশ্বর যা করছেন সবই আমাদের মানুষের জন্য, তবে তা ভুল। ঈশ্বর মানুষের জন্য কিছুই করছেন না। তিনি যা করছেন, সবই "মাটি'র" জন্য। হ্যা মাটি, যে মাটির উপর আমরা দাঁড়িয়ে আছি, সেই মাটির জন্য। অনেকে হয়তো এই কথাটি মানতে পারবো না আমরা। কিন্তু, প্রাকৃতিক দিক দিয়ে যদি বিবেচনা করি তবে আমরা দেখবো, আসলেই তাই হচ্ছে।


 ঈশ্বর যদি মানুষের জন্যে সব করতেন, তবে তিনি মানুষকে মারতেন না, বাঁচিয়ে রাখতেন। আমরা হচ্ছি "খাদ্য"; মাটির খাদ্য। মাছ, মাংস খেয়ে আমরা যেমন মাছের কাঁটা বা মাংসের হাড্ডি প্লেটের কোণায় রেখে দেই ও ফেলে দেই; ঠিক তেমনি আমাদের হাড় বা হাড্ডিও রেখে দেয়া হয় অবশিষ্ট হিসেবে। ঈশ্বর এই মাটিকে বাঁচিয়ে রাখতে প্রয়োজনে সমস্ত প্রাণীর জীবন নিয়ে নিবেন, তবু এই মাটিকে তিনি বাঁচিয়ে রাখবেন।




######



আমরা মানুষ, বেঁচে থাকি বিশ্বাসের উপর নির্ভর করে। এমনকি খাবার-দাবাড় যা-ই কাই না কেন, তা সবই বিশ্বাসের জোরেই আসে। আমরা বিশ্বাস করি বিধায় আমরা বেঁচে থাকি। যেদিন বিশ্বাস করতে পারবো যে মৃত্যুবরণ করবো, সেদিন ঠিকই আমাদের মৃত্যু ঘটবে। কিন্তু, আমরা তো বিশ্বাসই করতে পারবো না যে মৃত্যুবরণ করবো, আর সেই বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করেই আমরা বেঁচে আছি ও থাকি।


আমরা মানুষ প্রকৃতির অংশ, যদিও আজ তা সবাই ভুলে গেছি। আমাদের নিজেদের যে কোন ঘটনা বা পরিস্থিতি প্রাকৃতিক উপায়ে বিশ্লেষণ করবার কথা, আদৌ কি আমরা তা করছি? যে কোন কিছু ঘটলে পরেই আমরা সেটার বিশ্লেষণ করি বৈজ্ঞানিক উপায়ে। আমরা তো যন্ত্র নই, তবে কেন নিজেদেরকে যন্ত্রের সাহায্যে যাচাই করি?


মৃত্যু হচ্ছে মানুষের চূড়ান্ত ধাপ। মৃত্যু যদি আমার বিশ্বাসে গেঁথে থাকে, তবে তা যে কোন উপায়ে হলেও হবে। হোক সে - আত্মহত্যা, রাস্তায় এক্সিডেন্ট অথবা হাসপাতালের বিছানায়। এখন হয়তো মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, কেমন করে এই মৃত্যুবরণের বিশ্বাস মানুষের মধ্যে উঁকি দেয়? 


-------- অনেক সময় পত্রিকায় আমরা বাস বা গাড়ি দূর্ঘটনার সংবাদ শুনি ও দেখি। যে দূর্ঘটনা হয়েছে বা ঘটেছে সেটার প্রতি যদি নজর দেয়া যায় তবে বুঝতে পারবো যে, দূর্ঘটনায় কিন্তু সমস্ত যাত্রী মৃত্যুবরণ করেনি, অনেক আহত হয়েছেন, আবার অনেকের একেবারেই কিছু হয়নি। কেন এরকম হয়? আসল কথা, যখন দূর্ঘটনা ঘটেছে ঠিক সেই মুহুর্তে যারা মনে করেছে যে তারা আর বেঁচে থাকবে না, তারা ঠিকই চিরতরে বিদায় নিয়েছে ও মৃত্যুবরণ করেছে। অন্যদিকে, যারা ভেবেছে যে তাদের কোনকিছুই হবে না, প্রকৃত পক্ষে তাদের কিছুই হয়নি। আবার কিছু কিছু মানুষ দোটানায় ছিলো বাঁচবে কি মরবে তা নিয়ে, আর তারাই আহত হয়েছে, জন্ম মৃত্যুর সাথে লড়াই করে চলেছে। হয়তো এখন বিশ্বাস-এর জোর সম্পর্কে আমাদের অনেকটা জানা হয়েছে।







০২/০৯/২০১৯ ( সোমবার )

পথের দর্শন - জীবন ও সিদ্ধান্ত

   Thoughts | Inspiration | Motivation | | Poetry | Quotes | Fact | Truth | Solution of Life | Problems | John Ovi Rozario | BENGALI VERSION...